Wednesday, 20 August 2014

ডাক্তার নিকোলা টেসলার পরিচিতি (Introduction To Dr.Nikola Tesla)

২৭শে মার্চ ২০১৪ তারিখে ,অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ,সদগুরু শ্রী অনিরুদ্ধ বাপু আমাদের ডাক্তার নিকোলা টেসলার পরিচিতি দিয়েছেন ।বিশ্বাস করা হয় যে ডাক্তার টেসলা বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ,ওনার মতন বিজ্ঞানী এই বিশ্বে আর কেউ নেই ।মূলত বিস্মৃত বা ভুলে যাওয়া ওনার নানান আবিষ্কার বা উদ্ভাবন আজও বিশ্বের বা এই গ্রহের  প্রত্যেক মানুষের দৈনন্দিন জীবনের  একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে আছে ।তাই আজ থেকে আমি ডাক্তার নিকোলা টেসলার  মতন এক পবিত্র ব্যক্তিত্ব ও দুরদর্শী বিজ্ঞানী,যিনি নানান উদ্ভাবন করেছেন ,তাঁর উপরে একটি সিরিজ  শুরু করছি ।



ডাক্তার নিকোলা টেসলা বৈদ্যুতিক নিষ্কাশনের মধ্যেও নিজের গবেষণা শান্ত ভাবে করে যেতেন ।

ডাক্তার  নিকোলা টেসলা সার্বিয়ায় জন্ম গ্রহণ করে  ছিলেন , কিন্তু উনি আমেরিকান ছিলেন (Serbian-born American)। উনি "সহস্র বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক " (The Greatest Scientist Of The Millenium) হিসাবেই পরিচিত , প্রকৃতপক্ষে উনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ উদ্ভাবক , ফিউচারিস্ট (দূরদর্শী ), এবং একজন সক্ষম পরিকল্পনাকারী পদার্থবিদ্যাবিৎ (ফিসিসিস্ট ), যিনি  বিশ্ব জুড়ে সনামধন্য হয়ে আছেন তাঁর নানান অবিস্মরণীয় উদ্ভাবনের জন্য যেমন অল্টারনেটিং কারেন্ট (Alternating Current) ,ফ্রী এনার্জি (শক্তি) (Free Energy),ওয়্যারলেস পাওয়ার ট্রান্সমিসন(wireless power transmission)।

ডাক্তার নিকোলা টেসলা জন্ম গ্রহণ করেছিলেন এক ক্যাথলিক ধর্মীয় পরিবারে অস্ট্রীয় সাম্রাজ্যে (বাস্তবে যাকে ক্রোরেশিয়া বলা  হয় ) (Croatia), উনি জন্ম গ্রহণ করেছিলেন ১০ই জুলাই , ১৮৫৬ সালে মধ্য রাত্রে,বাইরে তখন দিনের বেলার  প্রখর গরমের কারণে  রাত্রে প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি ও বজ্রাঘাত হছিলো ।আরেকটি কৌতূহলজনক তথ্য হলো যে দাইমা যিনি নিকোলাসের মায়ের প্রসবের  সময়ে তাকে সাহায্য করছিলেন তিনি নিকোলাসের জন্মের পরে পূর্বাভাস  করেছিলেন যে নিকোলাসের প্রতিভা বাইরের ঝড় জল ও বজ্রাঘাতের মতনই প্রভাবশালী ও বিশাল হবে ,তাই তিনি ওনাকে " দ্য চাইল্ড অফ স্টর্ম" বলে আখ্যা করেছিলেন এবং প্রকিতপক্ষে তিনি পরে সেইরকমই হয়েছিলেন ।

ইলেকট্রিকাল ও মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং য়ের বিষারদ  ডাক্তার নিকোলা টেসলা ভর্তি হলেন "গ্রাজ "বলে একটি জায়গাতে "দ্য অস্ট্রিয়ান পলিটেকনিক স্কুলে ",মিলিটারী বর্ডার বৃত্তি নিয়ে । এরপরে ডাক্তার টেসলা প্রাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন শাস্ত্র নিয়ে পড়াশুনো করেছিলেন । ডাক্তার টেসলাকে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করা হয়েছিল ।ডাক্তার টেসলা ১৮ টি ভাষা জানতেন যার মধ্যে উনি ১২ টি ভাষার উপরে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন , যেমন সার্বো -ক্রোট ( ওনার মাতৃ ভাষা ), ল্যাটিন , ইতালিয়ান , ফরাসি , জার্মান , ইংরেজি , এবং আরও অনেক ভাষা ।     

ডাক্তার নিকোলা টেসলার নিজের নামে  ৭০০র বেশি পেটেন্ট আছেযা ওনার পারদর্শিতার প্রমান । ওনার বেশুমার ও বিস্ময়কর উদ্ভাবনের মধ্যে থেকে কিছু উদ্ভাদনের উল্লেখ এখানে করা হলো যেমন অল্টারনেটিং কারেন্ট বা বিদ্যুত (Alternating Current), শান্তি রশ্মিরেখা (Peace Ray), মানবাকৃতি রবটHumanoid Robots), টেলিভিশন, রিমোট কন্ট্রোল, এক্স রে, বেতার পাওয়ার ট্রান্সমিশন (wireless power transmission), ফ্রী শক্তি মহাজাগতিক রশ্মি  থেকে (free energy from Cosmic Rays), ইন্ডাকশান মোটর, রেডিও, আবর্তিত চুম্বকীয় ক্ষেত্রের নীতি (rotating magnetic field principle), টেলিফোন পুনরায় কারক (telephone repeater), টেসলা কয়েল (কুন্ডলী) ট্রান্সফরমার(Tesla coil transformer), বেতার যোগাযোগ (wireless communication), টেলিপোর্টেশন (teleportation), স্পেসটাইম বেন্ডিং(spacetime bending), সময় ভ্রমণ (time travel), ইত্যাদি, ওনার উদ্ভাবনের তালিকা অশেষ, অবিরাম ।




ডাক্তার নিকোলা টেসলা ওনার গবেষণাগারে 

ডাক্তার নিকোলা টেসলাকে  তাঁর এই অত্যন্ত উদ্ভাবনী এবং অপ্রচলিত কিন্তু কার্যকারী চিন্তাধারার জন্য অনেক পুরষ্কার ও সম্মানে সম্মানিত করা হয়েছে ।এর ভিতরে আছে "দ্য অর্ডার অফ সেন্ট্ সাভা(The Order Of St.Sava) "যা ওনাকে সার্বিয়ার রাজা মিলান ১ দিয়েছিলেন১৮৮৩ সালে  ,ফ্রাঙ্কলিন ইন্সটিটিউট(Franklin University) ওনাকে ওনাদের সর্বোচ্চ পুরষ্কারে সম্মানিত করেন যা হলো "দ্য এলিয়ট ক্রেস্সন মেডেল "(The Elliot Cresson Medal),উনি "দ্য জন স্কট অ্যাওয়ার্ড "(The John Scott Award)পান  ওনার নানান উদ্ভাবনের জন্যে যা মানবজাতিকে সুখ সাচ্ছন্দ্য দিয়েছে ও উপকৃত করেছে ।আরও কিছু পুরষ্কার বা সম্মানের তালিকা এখানে দেওয়া হলো যা উনি প্রাপ্ত করেছিলেন যেমন মন্টেনেগ্রোর রাজা নিকোলার কাছ থেকে উনি "দ্য অর্ডার অফ প্রিন্স দানিলো "(The Order Of Prince Danilo)পুরষ্কার পেয়েছিলেন ,উনি "দ্য এডিসন মেডেল "(The Edison Medal)ও পেয়ে সম্মানিত হয়েছিলেন ১৯১৭ সালে -যে পুরষ্কার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সর্বোচ্চ পুরষ্কার হিসাবে মানা হয় ।

ডাক্তার নিকোলা টেসলার নামানুসারে" দ্য মাগনেটিক ফ্লাক্স ডেনসিটি"(The Magnetic Flux Density) র আন্তর্জাতিক ইউনিটটির নামকরণ করা হয়েছে ।ডাক্তার টেসলাকে ১৯৭৫ সালে "দ্য ইনভেন্টরস হল অফ ফেম "(The Inventers Hall Of Fame)এ অভিষিক্ত বা অধিষ্ঠিত করা হয়।মার্কিন ডাক বিভাগ ডাক্তার নিকোলা টেসলাকে মরণোত্তর সম্মানিত করেন  ওনার স্মৃতিতে একটি স্মারক ডাকটিকিট বের করে ১৯৮৩ সালে ।"দ্য নিকোলা টেসলা অ্যাওয়ার্ড "(The Nikola Tesla Award)যা অন্য সব পুরষ্কারের মধ্যে একটি অন্যতম বিশিষ্ঠ ,স্বতন্ত্র এবং সম্মানিত পুরষ্কার ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট থেকে প্রতি  দেওয়া হয় ১৯৭৬ সাল থেকে । উপরন্তু ডাক্তার নিকোলা টেসলার সাফল্য কে স্মরণে রেখে  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ১০ই জুলাই নিকোলা টেসলা দিবস হিসেবে পালন করা হয় ।

ডাক্তার নিকোলা টেসলার সমস্ত বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এতই প্রগতিশীল ছিল যে এটা  মনে করা হয় যে  তিনি দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের প্রসবকর্তা এবং এও মনে করা হয় যে উনি প্রকৃতপক্ষে "তড়িৎ শতকের" (The Electrical Era) বা "দ্য ইলেকট্রিকাল এরা "ফারমান জারি করেন । সংক্ষেপে ডাক্তার টেসলার বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন শুধু মাত্র ২০ শতকের প্রগতির ভিত্তি গড়ে তোলেনি তা ২১ শতকেও সমান ভাবে প্রয়োজনীয় ও কার্যকারী ।এবং তাই ওনার  জীবিত কালে বিশ্বের সমস্ত প্রধান দেশগুলি তাদের চর স্থাপন করে ওনার গতিবিধির উপরে নজর রাখতেন । ডাক্তার নিকোলা টেসলা একজন বিজ্ঞানী , সংস্কারক ও একজন উচ্চ মাপের বিরল মানুষ ।

তিনি বিজ্ঞানের প্রতিটি বিষয়ে ঈশ্বরকে অনুভভ করেছেন ।উনি ওনার প্রতিটি বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রমান করে দিয়েছেন বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতা একই মুদ্রার দুই দিক ,একে অপরের পরিপূরক আর বৈজ্ঞানিক সব উদ্ভাবনই ইশ্বরের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ,জগতের সব কিছুই চালিত হয় "দ্য সুপ্রিম ফোর্স " (The Supreme Force) দিয়ে ,যা খালি ঈশ্বরই পারেন ।ওনার মতন একজন প্রতিভাশালী ,দূরদর্শী, প্রতিভাবান বৈজ্ঞানিক ও উচ্চ মানের মানুষকে আমাদের ভিতরে ফিরে পাওয়া একঅর্থে অসম্ভব ।ডাক্তার নিকোলা টেসলাকে ওনার বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের ও নূতনের প্রবর্তন করার জন্য "বিজ্ঞানের ঈশ্বর "বা "দ্য গড অফ সায়ন্স " (The God Of Science) বলা হয় ও সম্মানিত করা হয় ।



"হরি ওম "         শ্রী রাম "       " আম্বাদ্ন্যা "

No comments:

Post a Comment